বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

ভূমিকম্পের ক্ষতি কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি: পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ
ভূমিকম্পের ক্ষতি কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি: পরিবেশ উপদেষ্টা  সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

 জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনে ব্যক্তিগত সম্পত্তির ঝুঁকি নিরূপণ ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের হস্তক্ষেপের ক্ষমতা থাকতে হবে। ঝুঁকি মোকাবিলায় ট্রাস্ট গঠনের কাজ চলছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনে এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।  রাজউক ‘ভূমিকম্পের ঝুঁকি হ্রাসে প্রস্তুতি ও করণীয়’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এখনই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। শুধু রাজউক নয়, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে শিল্প, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাজউক চেয়ারম্যান জানান, রাজধানীতে পরপর কয়েক দফা ভূমিকম্পের পরিপ্রেক্ষিতে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় প্রায় ৩০০ ছোট-বড় ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রকৃতি অনেক সময় দিয়েছে মন্তব্য করে সেমিনারে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, কয়েক বছর ধরে বারবার ভূমিকম্প হচ্ছে। কিন্তু এবারের মতো ভয় মানুষ আগে পায়নি। জনমনের আতঙ্ক তখনই দূর হবে, যখন তারা দেখবে যে প্রশাসন তার দোরগোড়ায় যাচ্ছে তার ঝুঁকিটা মূল্যায়ন করতে, ঝুঁকি নিরূপণে ব্যবস্থা নিতে।

রাজধানীর ভবনগুলোর ঝুঁকি মূল্যায়নের কাজে রাজউক ও সিটি করপোরেশনকে প্রয়োজনে কঠোর হতে হবে বলে মন্তব্য করেন পরিবেশ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত সম্পত্তির অজুহাতে এ কাজে বাধা সৃষ্টি করা যাবে না। জননিরাপত্তার স্বার্থে রাজউককে এটি করতে হবে। প্রয়োজনে রাজউককে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর যেহেতু কম মাত্রার আফটার শক হয়েছে, তাই আপাতত সময়ের জন্য বিপদ পার হয়েছে বলে মনে করেন রিজওয়ানা হাসান। তিনি মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে প্রস্তুতি নিতে পরামর্শ দেন।

তিনি প্রস্তাব করেন, রাজউকের পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ঝুঁকি মূল্যায়ন শুরু করা যেতে পারে। বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়দের সহায়তায় জরিপ কার্যক্রম দ্রুত শুরুরও আহ্বান জানান তিনি।

সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ধীরগতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, অনেক সিদ্ধান্তই বাস্তবায়নের অভাবে ঝুলে থাকে। এগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। রাজউককে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দিয়ে প্রক্রিয়াটি সহজ করে তোলাই এখন জরুরি।

এ সময় গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ঝুঁকি মূল্যায়নের কাজ শেষ করতে হবে। রাজউকের ক্ষমতা বাড়াতে দ্রুতই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঝুঁকি মোকাবিলায় ট্রাস্ট গঠনের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম বলেন, সমন্বিতভাবে কাজ না করা গেলে ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব নয়। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। রিয়াজুল ইসলাম বলেন, অর্থের বিনিময়ে রাজউকে কোনো কাজ হয় না।

রাজউক কাউকে পরিকল্পনা করে দেয় না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বাড়ির মালিকরাই বাড়ির পরিকল্পনা রাজউকে জমা দেন এই শর্তে যে, রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী করবেন। সেটি না মানলে জরিমানা কিংবা শাস্তি দিলে সেই বাড়ির মালিকদেরই দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন, রাজউক ও ফায়ার সার্ভিস আলাদাভাবে কাজ করায় সব বিশৃঙ্খল অবস্থায় আছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম বলেন, যুগোপযোগী পরিকল্পনা প্রণয়ন, মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য রাজউককে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মেহেদি আহমেদ আনসারী, অধ্যাপক ড. তানভীর মঞ্জুর প্রমুখ।

Read more — জাতীয়
← Home