বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

নির্বাচন ঘিরে সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ীরা

২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ণ
নির্বাচন ঘিরে সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক

নারায়নগঞ্জের ফতুল্লায় ফের সক্রিয় হয়েছে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা। আওয়ামী আমলে তৈরি এসব সন্ত্রাসী গণঅভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন ছদ্মবেশে মাদকের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। কেউ কেউ গ্রেফতার হলেও অদৃশ্য শক্তির বলে পেয়েছেন ছাড়া। জেল থেকে বেরিয়ে এলাকায় গড়ে তুলেছেন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকের কারবার। ফলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সক্রিয় হওয়া মাদক কারবারিদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সমাজের সচেতন মহল।

আওয়ামী সরকার পতনের প্রায় দুই মাস আগে ফতুল্লার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও সোহাগ হত্যা মামলার আসামী মহসিন ওরফে মাইচ্ছা মহসিনকে (৩৩) গ্রেফতার করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। ফতুল্লা মডেল থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক রিজাউল হক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ফতুল্লার হক রোলিং সংলগ্ন গলিতে অভিযান চালিয়ে ২৭ গ্রাম হেরোইন সহ মহসানকে গ্রেফতার করে। এ বিষয়ে পুলিশ বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করে সেসময়।  হাতেনাতে গ্রেফতার করার পরও মাত্র ৫ মাসের মাথায় জামিন পেয়ে যায় মহসিন। এই মহসিন ফতুল্লা মডেল থানায় নাপা ব্যাংক কলোনী এলাকার মুসা বেপারীর ছেলে। তার এলাকাবাসী জানান, জেল থেকে বেরিয়ে এলাকায় ২০-৩০ জনের একটি টোকাই ও মাদকসেবনকারী গ্রুপের দেখভাল শুরু করেন মহসিন। তৎকালীন ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, গ্রেফতারকৃত মহসিন একজন শীর্ষ স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী। তাকে হোরোইনসহ গ্রেফতার করা হয়েছিল। এ বিষয়ে মামলাও হয়েছিল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদক ব্যবসায়ী মহসিন ওরফ মাইচ্ছা মহসিন আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে খোলস পাল্টে আইন-শৃংখলারক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স পরিচয় দিয়ে ফতুল্লাঞ্চলে আবারো মাদক ব্যবসায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মহসিন দাপার রেলস্টেশন, পিলকুনী, ব্যাংককলোনী, জোড়পুল, হকরোলিং মিলস, শিয়াচর তক্কার মাঠ, পিয়ারা বাগানসহ আশপাশ এলাকাজুড়ে গড়ে তুলেছে মাদকের বিশাল বাজার। তার এই মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ১৬-১৮ বছর বয়সী ২০-২৫ জনের মাদক বহনকারী বা খুচরা বিক্রেতা। যারা মহসিনের হয়ে কমিশন ভিত্তিক মাদক বিক্রি করে থাকে। এ ক্ষেত্রে সে নিজেকে ঢাকা মিন্টু রোডের ডিবি, নারায়নগঞ্জ জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সহ আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স পরিচয় দিয়ে স্থানীয় মহলে প্রভাব বিস্তার করে নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা করে আসছে।

জানা যায়, ফতুল্লাঞ্চলে যে সকল মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে তাদের মধ্যে সবচাইতে চতুর ধূর্ত মাদক ব্যবসায়ী হলো মহসিন ওরফে মাইচ্ছা মহসীন। সে যখনই মাদকসহ প্রশাসনের হাতে গ্রেফতার হয় তারপর আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে কখনো ফল বিক্রেতা, কখনো সবজি বিক্রেতা, মাছ বিক্রেতা হয়ে কিছুদিন আত্মগোপন করে। সময় বৃদ্ধির সাথে সাথে সে অতি গোপনে পাইকারিভাবে শুরু করে মাদক ব্যবসা। এমনকি জেলা পুলিশ সুপারের নিকট মাদক ব্যবসা করবেনা এবং সুস্থ জীবনে ফিরে আসার অঙ্গিকার করে সে পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। জেলা পুলিশ সুপারেরে নিকট লিখিত ভাবে মাদক ব্যবসা না করার অঙ্গিকার করার কয়েক মাস পর সে ফতুল্লাতে আইসের সর্ববৃহত্ত মাদকে চালান সহ ঢাকার মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিকট গ্রেফতার হয়। এরপর আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে ভ্যানগাড়ীতে করে ফলের দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করে।

সূত্র জানায়, ২০২২ সালে মহসিন মাদক বিক্রির তিন লাখ মিফা ও প্রায় অর্ধ কোটি টাকার আইস, হেরোইন ও ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে ৫ সহযোগিসহ ঢাকা জেলার মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হাতে গ্রেফতার হয়। সর্বশেষ ১০ গ্রাম হেরোইনসহ নারায়নগঞ্জ জেলা কাউন্টার টেরিজম ইউনিটের হাতে গ্রেফতার হয় এই মাদক ব্যাবসায়ী। বেশ কিছুদিন কারাগারে আটক থেকে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারো নতুন সিন্ডিকেট করে মাদক কারবারে সক্রিয় হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে সোর্স সোহাগ হত্যাসহ ঢালা, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। সে দীর্ঘদিন ধরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স পরিচয় বহন করে অনেকটা নিবিঘ্নে মাদক ব্যবসা করে আসছে।

এলাকাবাসী জানান, এলাকার খোকন, মাসুম ব্যাপারী ও মাসুমের ভাগ্নে বাবুকে মহসিন তার অবৈধ কাজের প্রধান হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করেন।  আরেক মাদক ব্যবসায়ী শাহীনের সঙ্গে মহসিনের ভালো সম্পর্ক থাকায় সবাই এক হয়ে মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। এছাড়া মাদক সম্রাট জাহিদ গ্রেফতারের পর তার মাদকের ম্যানেজার গুটি লাল চান, দালাল রাসেল ও গুটি ফারুক ব্যবসার হাল ধরেছে। এরসঙ্গে মাদকের আরেক গ্রুপ দোলন, মরিচ শাহীন, চাবারি মামুন ও ছোটটার মহসিন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বড় ভূমিকা পালন করে।

Read more — সারাদেশ
← Home