বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

এফপিও কর্মচারী রাশেদের কোটি টাকার সম্পদ

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৪৪ অপরাহ্ণ
এফপিও কর্মচারী রাশেদের কোটি টাকার সম্পদ
এফপিও কর্মচারী মো. রাশেদুল ইসলাম

বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠান সিনিয়র ফাইন্যান্স (আর্মি) কার্যালয়ের ফিল্ড পে অফিস এফপিও’র কর্মচারী মো. রাশেদুল ইসলামে কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। রাজশাহী সেনানিবাসের ভেতরে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থ ও বেতন সংক্রান্ত দপ্তরে কাজ করে ঘুষ ও অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে এসব সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নন্দনগাছীর ধর্মহাটা গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মো. রাশেদুল ইসলাম। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালে ১৬তম গ্রেডে চাকরিতে যোগ দেন রাশেদ। এরপর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের নিবেদিত প্রাণ হিসেবে কাজ করার উপহার হিসেবে বউয়ের চাকরি বাগিয়ে নেন এই কর্মচারী। বিএনপি নেতা ও নাটোর বাগাতিপাড়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমান হাফিজের মাধ্যমে হয় ঘুষের লেনদেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করলে আওয়ামী নেতার মাধ্যমে চাকরি পাইয়ে দেয় বিএনপি নেতা। ২০১৪ সালের এপ্রিলের ৭ তারিখ পুঠিয়া সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে নাটোর বাগাতিপাড়া সোনালী ব্যাংক শাখায় ৪ লাখ টাকা জমা দেয় রাশেদুল। পরবর্তীতে আরও আড়াই লাখ টাকা বিএনপি নেতা হাফিজের ব্যাংক একাউন্টে পাঠানো হয়।

সূত্র বলছে, বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান ২ নং জামনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ বারের চেয়ারম্যান ছিলেন। বাগাতিপাড়া উপজেলা বিএনপি'র সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবেক সদস্য সচিব এবং নাটোর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির  সদস্য হয়েও আওয়ামী নেতার মাধ্যমে চাকরি পাইয়ে দেন অডিটর রাশেদের স্ত্রীর। মোটা অংকের ঘুষের অর্ধেক আওয়ামী নেতা ও অর্ধেক বিএনপি নেতা ভাগ নেন।

রাশেদুল ইসলামের ধর্মহাটা গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা যায়-অর্ধকোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন রাশেদ। অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে তার সম্পদের ফিরিস্তি। ধর্মহাটা গ্রামের শুধু বরকতপুর মৌজায় ৯ জনের কাছে থেকে কিনেছেন জমি। মৃত ওমর আলী শাহের ছেলে মোঃ আঃ মজিদের কাছে থেকে কিনেছেন ৪১ শতক। এছাড়া মৃত আঃ জাব্বার শাহের ছেলে মো: জসিম উদ্দিনের কাছে থেকে ১৫ শতক, মৃত আবুল কাশেম শাহের স্ত্রীর কাছে থেকে ২৩ শতক, ছমির শাহের ছেলে মাসুদের কাছে থেকে ৮ শতক, মৃত কিশোরী মোহনের ছেলে শ্রী নিপেনের কাছে থেকে দুই দফায় ১৭ শতক (আগে ৬ শতক পরে ১১ শতক), মৃত হারানের ছেলে  শ্রী বিশার কাছে ২৫ শতক, আঃ হান্নানের স্ত্রী মোসাঃ আম্বিয়ার কাছে ১৮ শতক ৭ লাখ টাকায়, ফরমান শাহের স্ত্রী মোসাঃ ছকেনার কাছে ১৭ শতক জমি কিনেছেন ৫ লাখ টাকায়।

সরেজমিন অনুসন্ধানে বরকতপুরে রাশেদুল ইসলামের পাকা বাড়ী ও ধর্মহাটায় টিনসেড পাকা বাড়ীর তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়। রাজশাহী এবং নন্দনগাছী এলাকার তার বাসায় প্রায় ২০ লাখ টাকার বেশি আসবাবপত্র রয়েছে। তার রাজশাহীর বাসাতে প্রায় ১০ টাকার ডেকোরেশন করা হয়েছে। সবমিলিয়ে কোটি টাকার বেশি সম্পত্তির প্রাথমিক সন্ধান ও সত্যতা পাওয়া যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, রাশেদুল শ্বশুর বাড়ীতে অনেক জমি কিনেছেন। এখানে যা কিনেছেন তারচেয়ে বেশি কিনেছেন শশুরবাড়ি। রাজশাহী শহরে তার পাকাবাড়ি আছে। একটা কর্মচারীর চাকরি করে কোটি টাকার সম্পত্তি কিভাবে করে? আপনারা অনুসন্ধানে আসছেন এখন আর রাশেদ একবার ঘুষ খাওয়ার সময় হাতেনাতে ডিজিএফআইয়ের হাতে ধরা পড়েছিল। কোনো শাস্তি হয়েছে বলে মনে হয় না। আগের মতো ঘুষ খায়।

সাধারণত সেনাবাহিনীর অফিসার ও অন্যান্য বেতন ও আর্থিক বিষয়াদি পরিচালনা ও হিসাব রাখার কাজ করে কন্ট্রোলার জেনারেল ডিফেন্স ফাইন্যন্স (সিজিডিএফ)। ঘুষ খেয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর কাদিরাবাদ সেনানিবাস, নাটোর এফপিও অফিসে বহিঃ বাংলাদেশ ছুটি থাকা অবস্থায় ৪০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে ডিজিএফআইয়ের কাছে ধরা পড়ে রাশেদ। শাস্তি হিসেবে অডিটর পদ থেকে জুনিয়র অডিটর পদে সর্বনিম্ন ধাপে পদাবনিত করা হয়। তবে শাস্তির তথ্য রাশেদের চাকুরি বহিতে লিপিবদ্ধ নাই। উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে কাগজ কলমে শাস্তির বিষয়টি গোপন করেন রাশেদ।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে রাশেদুল ইসলামকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সিনিয়র ফাইন্যান্স কন্ট্রোলার (আর্মি) কার্যালয়ের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Read more — জাতীয়
← Home