বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভ্যাট দেওয়ার জন্য সফটওয়্যার চালু করার উদ্যোগ

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বিদেশে ভ্যাট প্রদান ছাড়া ক্রয় করা যায় না। কিন্তু বাংলাদেশে একটা দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, ভ্যাট আদায় হলেও অনেক সময় তা সরকারের কোষাগারে পৌঁছায় না।

নিজস্ব প্রতিবেদক ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:১১ পূর্বাহ্ণ
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভ্যাট দেওয়ার জন্য সফটওয়্যার চালু করার উদ্যোগ
গতকাল বুধবার এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ে ভ্যাট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেনসহ অন্যরা ফট

সহজে যাতে ভ্যাট দেওয়া যায়, সে জন্য ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য আলাদা সফটওয়্যার চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, সরকারি খরচে এ সফটওয়্যার চালু করা হবে। অনলাইনের মাধ্যমে সেখানে প্রবেশ করে ছোট ব্যবসায়ীরা ভ্যাট দিতে পারবেন। তাদের আলাদা কিছু করতে হবে না।

গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ে ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।  

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সম্পদ প্রয়োজন। তাই নিজস্ব স্থানীয় সম্পদের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ বিদেশ থেকে ধার (ঋণ) আনা হয়। কিছুটা অনুদান পাওয়া যায়। কিন্তু ধারের টাকায় অনেক রকম সুদ দিতে হয়। অনেক শর্ত থাকে। এই ঋণের টাকা মজমা বা স্বপ্নের পোলাও খাওয়ার মতো না। এমন না যে, স্বপ্নের পোলাও খাব, যত ইচ্ছা ঘি ঢালব, ঋণে কোনো সুদ নেই। তাই ঋণের টাকায় বেশি দূর এগোনো যায় না।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারের রাজস্ব বাড়াতে হবে। কোনো কোনো দেশে কর-জিডিপি অনুপাত ২৬ শতাংশ। ওইসব দেশের জনগণ সঠিকভাবে সেবাও পায়। দেশে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। দেশে যদি হাসপাতাল ও শিক্ষায় যথাযথ সেবা পাওয়া যায়, তাহলে মানুষ স্বেচ্ছায় রাজস্ব দিতে এগিয়ে আসবে।

অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ভ্যাট চালুর প্রথম দিকে ৯৫ শতাংশ ব্যবসায়ী এর বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু এই ভ্যাটের মাধ্যমেই সরকারের আয় বেড়েছে। সেটা না হলে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতার মতো অনেক ভাতা চালু করা যেত না।

তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে চালু হওয়া ভ্যাটের লক্ষ্য ছিল সহজ ও একরৈখিক কাঠামো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন খাতের অনুরোধে নানা ছাড় ও বিশেষ ব্যবস্থার কারণে ভ্যাট আইনের মূল কাঠামোই বিকৃত হয়ে গেছে। এতই পরিবর্তন করা হয়েছে যে, ভ্যাট আইন বাস্তবায়নযোগ্য থাকেনি। 

অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন বলেন, বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট ব্যবসায়ীদের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে এবং তা কমানো যেতে পারে। এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ভ্যাট হার কমালে বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতি হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর ভ্যাট হার ১৮ শতাংশ পর্যন্ত। বাংলাদেশে সে তুলনায় কম।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ৫২ বছর ধরে সরকার আয়ের চেয়ে বেশি ব্যয় করছে, ফলে ঋণ বাড়ছে। রাজস্ব বাড়ানোর বড় পথ আয়কর, ভ্যাট এবং কাস্টমসকে ডিজিটাল ও একীভূত করা। তিনি বলেন, একদল ব্যবসায়ী সবসময় কর দিচ্ছে, আবার অনেকে দিচ্ছে না। এমন বৈষম্য থাকলে বড় কোম্পানি টিকে থাকতে পারবে না। ইতোমধ্যে অনেকে বিদেশে বিনিয়োগ শুরু করেছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বলেন, অনেক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে একটা সিস্টেম তৈরি হয়েছে। সেটি ধরে রাখতে হবে। 

আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, ভ্যাটের বিরোধিতা শুরু থেকে ছিল। ভ্যাট আদায় যতটুকু হওয়ার কথা ছিল, সে তুলনায় পিছিয়ে আছে দেশ। তবে সম্ভাবনা রয়েছে। একদিকে ভোক্তাকে ভ্যাট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের ভ্যাট আদায় করে এনবিআরকে দিতে হবে। সেখানে কোনো ব্যত্যয় করা যাবে না।

Read more — অর্থনীতি
← Home