বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬

ফুডপান্ডার পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১১ অপরাহ্ণ
ফুডপান্ডার পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

কয়েক কোটি টাকার পণ্য সরবরাহের পর অর্থ পরিশোধ না করা, পণ্য নষ্ট হওয়ার অজুহাতে ভুয়া ফেরত চালান তৈরি এবং চুক্তির বাইরে বিভিন্ন খাতে অর্থ কেটে নেওয়ার অভিযোগে ফুডপান্ডা বাংলাদেশের পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে করা পৃথক চারটি মামলায় এ পরোয়ানা জারি করা হয়।

আসামিরা হলেন ফুডপান্ডা বাংলাদেশের কো-ফাউন্ডার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দা আম্বারিন রেজা, কো-ফাউন্ডার ও পরিচালক জুবায়ের সিদ্দিকী, পান্ডামার্টের পরিচালক মো. তাবরেজ খান, হেড অব ক্যাটাগরি দিলারা ফারুক এবং সিনিয়র ম্যানেজার মোহাম্মদ সাজেদুল হক।

মামলার নথি অনুযায়ী, রাজধানীর ব্যবসায়ী ও ফার্স্ট টেলি সেলস কোম্পানির স্বত্বাধিকারী শিহাব মাহমুদ বশির বাদী হয়ে গুলশান থানায় পৃথক চারটি মামলা করেন। পরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছানাউল্ল্যাহ মামলাগুলো আমলে নিয়ে গুলশান থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলাগুলোর নম্বর ৩৫১৭/২৫, ৩৫১৮/২৫, ৩৫১৯/২৫ ও ৩৫২০/২৫।

এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, বাদী আইপিএলই ইলেকট্রনিক্সের মাধ্যমে হাউজহোল্ড ও কিচেন অ্যাকসেসরিজ, মোবাইল অ্যাকসেসরিজসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে ফুডপান্ডার সহযোগী প্রতিষ্ঠান পান্ডামার্টে সরবরাহ করতেন। ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ক্রয়াদেশের মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার পণ্য সরবরাহ করা হয়।

বাদীর অভিযোগ, সরবরাহ করা পণ্যের বিপরীতে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হলেও প্রায় ১ কোটি টাকা এখনো বকেয়া রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পাওনা অর্থ পরিশোধ না করে বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগও করা হয়েছে।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, সরবরাহ করা কিছু পণ্য নষ্ট হয়েছে দেখিয়ে ভুয়া ফেরত চালান তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বকেয়া অর্থের পরিমাণ কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি বাদীর। এ ছাড়া চুক্তির শর্তের বাইরে ভ্যাট, ট্যাক্স ও বিজ্ঞাপন বাবদ প্রায় ১০ লাখ টাকা কেটে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

মামলাগুলোতে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চলছে। পণ্য ফেরতের দাবির যথার্থতা, ফেরত চালান তৈরির প্রক্রিয়া এবং বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করার কারণসহ সংশ্লিষ্ট লেনদেনের বিভিন্ন দিক তদন্তে উঠে আসবে।

পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর মামলাগুলোর পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম এখন আদালত ও তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে।

Read more — জাতীয়
← Home