সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬

মেহেদী হত্যা: কিশোর আজানকে সংশোধনাগারে পাঠানোর আদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৬ অপরাহ্ণ
মেহেদী হত্যা: কিশোর আজানকে সংশোধনাগারে পাঠানোর আদেশ

রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনে গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার কিশোর আজান আলী শরীফকে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আদালতে আজানের পক্ষে জামিন আবেদন করেন আইনজীবী মো. আলমগীর হোসেন। অন্যদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই মো. আরিফীন ইসলাম তাকে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত কিশোর আজানকে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জামিন আবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনার সময় আজান গাড়িটির চালকের পাশের আসনে ছিলেন। আবেদনে দাবি করা হয়, নিহত মেহেদী শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন। হর্ন দেওয়ার পরও তিনি দ্রুত সরে যেতে না পারায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে আজানের পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে ৯ লাখ টাকা নগদ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, দুর্ঘটনার পরপরই প্রাইভেট কারটির চালকের আসনের দরজা খুলে আজান আলী শরীফ বের হয়ে আসছেন। ফুটেজ পর্যালোচনায় ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলেও আদালতকে জানান তদন্ত কর্মকর্তা। তদন্ত চলমান থাকায় সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে আটক রাখার আবেদন করেন তিনি।

এর আগে বুধবার গুলশানের বাসা থেকে আজানকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গাড়িটি কে চালাচ্ছিল, সে বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান (২৪)। এ সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে তাকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত মেহেদীকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম ২৩ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেন। মামলায় গাড়িচালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪)-কে আসামি করা হয়। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আকাশ মারক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে মেহেদীকে চাপা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান।

পুলিশ জানিয়েছে, এজাহারে আকাশ মারকের নাম থাকলেও তদন্তে পাওয়া ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজে কিশোর আজান আলী শরীফের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি আজানের মায়ের নামে নিবন্ধিত বলেও জানিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন চালকের আসনে থাকা আজানকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে পরিবারের এক সদস্যের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর তাকে পুনরায় পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

Read more — জাতীয়
← Home