সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬

জানুয়ারিতে সংবিধান সংশোধন বিল, ফিরছে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা’

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫১ অপরাহ্ণ
জানুয়ারিতে সংবিধান সংশোধন বিল, ফিরছে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা’

আগামী বছরের জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিল উত্থাপন করা হতে পারে। প্রস্তাবিত সংশোধনীর মধ্যে সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদে পরিবর্তনের বিষয় রয়েছে। এসব পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে গণভোটের প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটির আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমদ।

রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের গণমাধ্যম কেন্দ্রে কমিটির তৃতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, বিভিন্ন সাংবাদিক ফোরামের প্রতিনিধি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করে কমিটি।

সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুচ্ছেদ, তফসিল এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়ে মতামত ও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাদের অনেকে লিখিত প্রস্তাবও দেবেন। এসব মতামত ও আলোচনার ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন ও পুস্তিকা প্রস্তুত করা হবে।

সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, মতবিনিময় সভায় অনেক সম্পাদক বিরোধী দলের সদস্যদেরও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন। কমিটিও এতে একমত। বিরোধী দলগুলোকে একাধিকবার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তারা অংশ নিলে স্বাগত জানানো হবে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, বিভক্তির পরিবর্তে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নিতে চায় কমিটি।

গণভোটের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৫তম সংশোধনী নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটসংক্রান্ত আগের বিধান পুনর্বহাল হয়েছে। ২০২৫ সালের হাইকোর্টের রায়ে ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে গণভোটের বিধান বাতিলের অংশকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে আগের বিধান পুনরুজ্জীবিত করা হয়।

কমিটির আহ্বায়ক জানান, সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হলে রাষ্ট্রপতির সম্মতির আগে গণভোট আয়োজনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকবে। সংসদে বিল পাসের পর সেই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানান।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংক্রান্ত বিধান সুরক্ষার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে কোনো সংসদ যাতে সহজে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করতে না পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক বিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও গণভোটের ব্যবস্থা রাখা হোক।

সংবিধান সংশোধনের অগ্রাধিকার সম্পর্কে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোও সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সংবিধানের প্রস্তাবনায় এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ৮ অনুচ্ছেদে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ যুক্ত করার বিষয়টি নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি হিসেবে বাস্তবায়ন করা হবে। এটি ১৯৭৭ সালে সংবিধানে যুক্ত হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে বাদ যায়।

সংশোধন প্রক্রিয়ার সময়সীমা সম্পর্কে কমিটির আহ্বায়ক জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় সংশোধনী বিল প্রস্তুত করবে। এরপর জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদের বছরের প্রথম অধিবেশনে বিলটি উত্থাপনের আশা করা হচ্ছে।

সংসদে বিলটি নিয়ে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে তা পাস হলে সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটের পর সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি।

ব্রিফিংয়ের শেষ পর্যায়ে গণমাধ্যম ও সম্পাদকদের মাধ্যমে বিরোধী দলগুলোর প্রতি সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

Read more — জাতীয়
← Home