সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬

এলপিজির দাম বাড়ল, ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৮৩৭ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ
এলপিজির দাম বাড়ল, ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৮৩৭ টাকা

অনলাইন ডেস্ক: তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আবারও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতদিন একই পরিমাণ এলপিজির দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।

রোববার (৪ অক্টোবর) অক্টোবর মাসের জন্য এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করে বিইআরসি। নতুন দর অনুযায়ী, ভোক্তাকে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের জন্য আগের তুলনায় ২৫২ টাকা বেশি গুনতে হবে।

এদিকে বাজারে এলপিজির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কয়েকটি অপারেটর অতিরিক্ত মুনাফা করার চেষ্টা করছে—দুটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে জানানো হলে শনিবার এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোটাব) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে দেশে এলপিজির মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, দেশে চাহিদা অনুযায়ী এলপিজি আমদানি হয়েছে। তাহলে বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে কেন এবং কোথাও কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে কেন—এ বিষয়ে লোটাব নেতাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

তবে এলপিজি অপারেটরদের পক্ষ থেকে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। লোটাব নেতারা বৈঠকে জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম অনেক বেড়েছে। দেশে এলপিজির দাম কিছুটা বাড়ানো হলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। বৈঠক শেষে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে রাজি হননি জ্বালানিমন্ত্রী।

বৈঠকে উপস্থিত এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অপারেটররা রোববার থেকে এলপিজির দাম এক ধাপে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পক্ষে ছিলেন। তাদের দাবি অনুযায়ী দাম বাড়ানো হলে আমদানির ক্ষেত্রে সুবিধা হবে বলেও তারা মনে করছেন। বিইআরসি তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী দাম বাড়াচ্ছে না—বৈঠকে এমন অভিযোগও করেন লোটাব নেতারা বলে জানান ওই ব্যক্তি।

এদিকে ২২ সেপ্টেম্বরের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে এলপিজির সংকট তীব্র হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্ধারিত ১ হাজার ৫৮৫ টাকার ১২ কেজির সিলিন্ডার কোথাও কোথাও আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং জাহাজভাড়া বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলপিজি আমদানির খরচ কিছুটা বেড়েছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু অপারেটর এলপিজি মজুত করে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি এলপিজি অপারেটর আগেই তাদের ট্যাংকারে গ্যাস মজুত করেছে। আবার কিছু এলপিজিবাহী জাহাজ ৩০ সেপ্টেম্বরের আগেই বঙ্গোপসাগরের সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Read more — জাতীয়
← Home