সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬

মিরপুরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-লুট: পুলিশের গাফিলতির প্রমাণ তদন্তে

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৭ অপরাহ্ণ
মিরপুরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-লুট: পুলিশের গাফিলতির প্রমাণ তদন্তে

অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশের সদস্যদের গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। রোববার তদন্ত প্রতিবেদন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনায় যাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে, তাদের ভূমিকা আরও যাচাই করা হচ্ছে। অনুসন্ধান শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হামলা ও লুটপাটে যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের মামলায় আসামি করা হবে বলেও জানান তিনি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেননি। এমনকি পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই লুটপাট চলার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে। এ কারণে ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছে।

তদন্তে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে সরাসরি জড়িতদের সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে অন্তত নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে হামলায় রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট কোনো নেতা জড়িত থাকার বিষয়ে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিস্তারিত কিছু জানাননি।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও লুটপাটের পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তের নির্দেশ দেন। দারুস সালাম জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনারের (এসডিসি) নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে শনিবারের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

এর মধ্যে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা অফিস আদেশে তাকে ডিএমপি সদর দপ্তরের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। আদেশে প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে ‘প্রশাসনিক কারণ’ উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্তের পাশাপাশি অভিযানও চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত অন্তত নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ। তবে ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

তদন্তকারীদের ভাষ্য, কারও রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাড্ডা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হামলাকারীরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বিভিন্ন কক্ষ ভাঙচুর করে মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও মালামাল নিয়ে যায়। পরে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ভবনটিরও ক্ষতি করা হয়। আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্রিজ, এসি, ওষুধ ও টিকাদান সামগ্রীসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

Read more — জাতীয়
← Home